সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

ইসকন(ISKCON) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা

ইসকন(ISKCON) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা

এড. গৌরাঙ্গ বসু
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সঙ্ঘ (INTERNATIONAL SOCIETY FOR KRISHNA CONSCIOUSNESS) । এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন শ্রীল অভয়চরনারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভূপাদ,সংক্ষেপে শ্রীল প্রভূপাদ। আসল নাম অভয়চরণ দে। জন্ম ১৮৯৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর । মৃত্যু ১৯৭৭ সালের ১৪ অক্টোবর ।
১৯৬৬ সালের ১৩ জুলাই নিউইয়র্ক শহরে ISKCON ( ইসকন) সংগঠণটি তিনি নিজ হাতে প্রতিষ্ঠা করেন। ইসকনের মূল ধর্ম বিশ্বাসটি শ্রীমদ্ভাগবত ও ভগবদগীতা গ্রন্থদ্বয়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর সদর দপ্তর ভারতের পশ্চিমবংগের নদীয়া জেলার মায়াপুরে ।
ইসকনের প্রতিটি মন্দিরে একজন অধ্যক্ষ থাকেন ( TEMPLE PRESIDENT) থাকেন। উনি হলেন মন্দিরের প্রধান কর্মকর্তা । কাজের সুবিধার্থে ইসকন পুরো পৃথিবীকে প্রায় ৩০ টি অঞ্চলে ভাগ করে নিয়েছে।প্রতিটি অঞ্চল একজন অভিজ্ঞ ভক্তের তত্ত্বাবধানে থাকে। এই পদটিকে বলা হয় গভর্ণিং বডি কমিশনার বা ( GBC)। এরা প্রতিবছর মায়াপুরে একবার মিলিত হয়ে বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন । গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ইসকনের মূল উদ্দেশ্যসমূহ – জনসেবা, শিক্ষা, ধর্মচর্চা ও অধ্যাত্মচর্চা।
ভাবনার বিষয়ঃ ইসকনের সৃষ্টি ভারতবর্ষে ন্য় , আমেরিকার নিউইয়র্কে। মাত্র ৫৬ বছর আগে, ১৯৬৬ সালে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভূপাদ। যিনি ভারতবর্ষের কোন হিন্দু শিক্ষালয়ে বা বিদ্যাপিঠে লেখাপড়া করেননি । তিনি লেখাপড়া করেছেন খ্রিস্টানদের চার্চে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসায়ী।
সংগঠনটি প্রতিষ্ঠালগ্নে মূল ধারার সনাতন হিন্দুরা বাঁধা প্রদান করেছিল। কিন্তু সেই সময় স্বামী প্রভূপাদের পাশে এসে দাঁড়ায় জে স্টিলসন জুড়া ,হারভে কক্স ,ল্যারিশিন ও টমাস হপকিন্স এর মত চিহ্নিত ইহুদি- খ্রিস্টান এজেন্টরা ।
এই সংগঠনটি সনাতনী হিন্দুদের বেসিক ( Basic Concept) স্বীকার করেনা। তারা সনাতনী হিন্দুদের উপর তাদের মনগড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব ইসকনীয় চিন্তাচেতনা বা ভাবধারা চাপিয়ে দিতে সিদ্ধহস্ত। এরা সবসময় ইউরোপীয় সাদা চামড়াদের সামনে নিয়ে আসে। সংগঠনটি মূলত এনজিও টাইপ । এরা নিম্ন বর্ণের তথা

সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণিদের দলে ভিড়িয়ে দল ভারী করে । যেমন স্বামীবাগের মেথরপট্টি ,সিলেটের চা বাগানের চা শ্রমিক ।
ইসকন – এ ‘ প্রভূ’দের নাম পরিবর্তন করার রীতির ফলে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড বা আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখা সহজ । যেমন ইসকনের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা জয়াদ্বৈত স্বামীর আসল নাম ‘ জে ইসরায়েল (Jay Israel)। তার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি রাজ্যে একটি ইহুদি পরিবারে । ইসকনের আরেক নীতি নির্ধারক হচ্ছেন রাধানাথ স্বামী । তার আসল নাম্ রিচার্ড স্লাভিন ( Richard Slavin) । তিনিও পারিবারিক সূত্রে ইহুদি। তার মা ইডেল ও জেরাল্ড স্লাভিন। এই দুইজন প্রায় ৫০ বছর যাবত ইসকনের নীতি নির্ধারণী কাজে জড়িত । রিচার্ড স্লাভিন গভর্ণিং বডির সদস্য এবং একজন দীক্ষা গুরু। ইসকনের ভক্তদের মধ্যে ইহুদি প্রভাবের একটা নামও আছে “ জেবিডি” ( Jewish Bacground Devotee ) ।
১৯৭৬ সালে নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্ট People vs Murphy অর্থাৎ জনগণ বনাম মার্ফি মামলায় দুইজন মার্কিন নাগরিক আদালতে ইসকনের বিরুদ্ধে এই বলে অভিযোগ দায়ের করেন যে, ইসকনের ধর্মগুরুরা তাদের কোমলমতি শিশু সন্তানদের ব্রেইন ওয়াশ করে প্রথমে তাদেরকে পরিবার থেকে আলাদা করেছে এবং পরবর্তীকালে ধর্মান্তরিত করেছে ।
১৯৮৭ সালে আরেকটি মামলায় ইসকন ধর্মীয়নেতা কির্তানন্দের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে হত্যা মামলায় চার্জ গঠণ হয় এবং তাকে ২০ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয় ।
সত্তর ও আশির দশকে শিশু নির্যাতন এবং শিশু বলাৎকারের একাধিক মামলা দায়ের করা হয় । যেগুলির মধ্যে টারলি কেস ( Turley Case ) সারা দুনিয়ায় হইচই ফেলে দেয় । ২০০৪ সালে এই মামলা নিষ্পত্তি হয় । বাদির পক্ষে আদালত রায় দিল যে, ইসকনকে ৯০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বাদিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তখন ইসকন নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে এবং ১২৭ কোটি টাকা পরিশোধ করে রক্ষা পায়।
২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে সারা বিশ্বে ইসকনের ৬০০০০ টিরও বেশী মন্দির এবং কেন্দ্র রয়েছে। এর ৬৫ টি খামার সংগঠন ,৫৪ টি বিদ্যালয় ,৬৯০ টি ভোজনালয় আছে।

ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা এসি ভক্তিবেদান্ত প্রভূপাদের বিশ্বাস প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে অবতার হয়েছেন নিমাই সন্যাস নাম নিয়ে ওই সময়ের দর্শনকে তারা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর দর্শন বলে মেনে আসছে। ইসকনের মূলভিত্তি হচ্ছে সেই “ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দর্শন”।
আরেকটি আশ্চর্যের বিষয় হল – ইসকন সব সময়ই বলেন তাদের গীতা ভাষ্যই সঠিক অর্থাৎ যথাযথ , কারণ তারা গুরু পরম্পরার মাধ্যমে গীতা জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে ।তারা গুরু পরম্পরার একটি তালিকা প্রণয়ন করেছেন – ১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ১৩. বিদ্যানিধি ২৫. শ্রী কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
২.ব্রহ্মা ১৪. রাজেন্দ্র ২৬. শ্রী নরোত্তম দাস ঠাকুর
৩. নারদ ১৫. জয়ধর্ম ২৭. শ্রী বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর
৫. মধ্বাচার্য ১৭. ব্রহ্মণ্যতীর্থ ২৯. শ্রী ভক্তি বিনোদ ঠাকুর
৬. পদ্মনাভ ১৮. ব্যাসতীর্থ ৩০. শ্রী গৌর কিশোর দাস
৭. নৃহরি ১৯. লক্ষ্মীপতি ৩১. শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর
৮. মাধব ২০. মাধবেন্দ্রপুরী ৩২. শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তি
৯. অক্ষোভ্য ২১. ঈশ্বরপুরী বেদান্ত স্বামী প্রভূপাদ।
১০. জয়তীর্থ ২২. শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভূ
১১. জ্ঞানসিন্ধু ২৩. শ্রীরূপ গোস্বামী
১২. দয়ানিধি ২৪. শ্রী রঘুনাথ দাস গোস্বামী
এটি বর্ণনা করতে গীতার যে শ্লোক (গীতা ৪/১) ব্যবহার করেছেন তার পূর্বের শ্লোকটি হয়তো তাদের নজরে আসেনি ।এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন –
“ ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবান্ অহম্ অব্যয়ম্।
ব্বিস্বান্ মনবে প্রাহ মনু ইক্ষ্বাকবে অব্রবীৎ।।”

অর্থাৎ আমি পূর্বে সূর্যদেব ব্বিস্বানকে এই অব্যয় কর্ম সম্পর্কিত জ্ঞান বলেছিলাম । সূর্য তা মনুকে বলেছিলেন ।মনু তা ইক্ষ্বাকুকে বলেছিলেন । এই ভাবে পরম্পরার মাধ্যমে প্রাপ্ত এই পরম বিজ্ঞান রাজর্ষিরা লাভ করেছিলেন ।কিন্তু কালের প্রভাবে পরম্পরা ছিন্ন হয়েছিল এবং তাই সেই যোগ নষ্ট হয়েছে ।”গীতা ৪/২
“ সেই সনাতন যোগ আজ আমি তোমাকে বললাম ………।“ গীতা ৪/৩
এ শ্লোক গুলো হতে জানা যায় কর্মযোগ সম্পর্কিত সেই জ্ঞান শ্রীকৃষ্ণ প্রথমে সূর্যকে বলেছিল । ইসকনের লিস্ট অনুসারে ব্রহ্মাকে বলে নাই। আর গীতানুসারে পূর্বে শ্রীকৃষ্ণ যে জ্ঞান বলেছেন তা পরম্পরার

মাধ্যমে অনেকগুলো পরম্পরা চলার পর নষ্ট হয়ে গিয়েছিল । তাই তিনি সেই জ্ঞান অর্জুনকে আবার
বলেছেন । অথচ ইসকনের তালিকায় সূর্যদেব ও অর্জুনের নাম-ই নেই। তার মানে তাদের গুরু
পরম্পরা অন্তসারশূন্য একটা পরম্পরা।
১১ মে ১৯৭৫ সালের মর্নিং ওয়ার্ক কথোপকথনে প্রভুপাদ বলেছেন – Rahu planet orbit is in between moon and sun. So when it comes in between moon and sun there is eclipse. At night it is eclipse in the moon, and day time it is eclipse in the sun. – এটি চরম হাস্যকর একটা দাবি নিঃসন্দেহে ।
প্রভুপাদ বলেছেন , সূর্য পৃথিবীর উপরে অবস্থান করে । আর চন্দ্র সূর্যের উপরে অবস্থান করে । চন্দ্র থেকে পৃথিবীর দূরত্ব ৯৫০০০০০০ মাইল। সূর্য পৃথিবীর নিকটে ও চন্দ্র দূরে অবস্থান করে।
১৯৭৬ সালে ২ জুলাই ওয়াশিংটন ডি সি অবস্থান কালে তিনি বলেন – যেইমাত্র কোন পুরুষ যুবতীর স্তন এবং বাহুমূলে নেত্রপাত করে তখনি সে শেষ। যতদিন সে এসবের দ্বারা আকৃষ্ট হবে তাকে বার বার জন্ম গ্রহণ করতে হবে।
প্রভুপাদ ছিলেন একজন নারী বিদ্বেষী এবং নারীদের অবদমিত করে রাখার সপক্ষেও ছিলেন । ধর্ষণ সমন্ধে তিনি বলেন – So either by force or by willingly, if there is itching ,everyone feels relieved itching it, that’s a psychology. It is not that the woman do not like rape. They like sometimes. They willingly that is the psychology. Outwardly they show some displeasure, but inwardly they do not. This is the psychology. কী বুঝলেন ? – মহিলারা নাকি ধর্ষণ পছন্দ করে।
প্রভুপাদ তার বই শ্রীমদ ভাগবতম ৪.২৫.৪১ এ বলেছেন- Although rape is not legally allowed ,it is a fact that a woman likes a man who is very expert at rape.
প্রভুপাদ শ্রীমদ ভাগবতম ৪.২৫.৪২ এ বলেছেন – A young woman who has no husband is called anath.
লেখকঃ এড. গৌরাঙ্গ বসু, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2021
Design & Developed By : JM IT SOLUTION